ইসলামের আলোকে কোন ধরনের ছবি জায়েজ-নাযায়েজ



এ কথা সহজেই অনুমেয় যে, রাসূল [সা.] যে তাসবির-ছবি নিষেধ করেছেন তা নিশ্চয়ই ডিজিটাল ছবি ছিলো না ৷ বরং তা ছিল মূর্তি বা মূর্তির আকৃতি স্বরুপ ছবি ৷
রাসূল [সা.] বলেন,
لا تدخل الملائكة بيتا فيه كلب و لا تصاور
ওই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না যে ঘরে কুকুর থাকে কিংবা তাসবির-ছবি থাকে ৷ এছাড়াও সে সকল হাদিসে ছবির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে বলা হয়ে থাকে সেগুলোতেও তাসবির বা صورة শব্দই ব্যবহৃত হয়েছে ৷ যেমন- هلك المصورون বা من صور ইত্যাদি ৷
আসুন জেনে নেই তাসবির কী?
এ কথা মনে রাখতে হবে যে, তাসবির শব্দটি আরবি ব্যকরণ অনুযায়ী বাবে তাফয়িলের মাসদার বা ক্রিয়া ৷ আর বাবে তাফয়িলের বিশেষত্ব ( خاصة ) হল جعل ৷ এর অর্থ প্রদান করে। তাই تصوير মানে جعل الصورة যার অর্থ দাঁড়ায় চিত্র-ছবি নির্মাণ করা ৷ আভিধানিক অর্থে ما يجعل من الطين والخشبه অর্থ্যাৎ যা কাদামাটি ও কাঠ দ্বারা নির্মাণ করা হয় এবং যেটাকে মানুষ পূজা করে তাকেই তাসবির বা ছবি বলা হয়। কোনোভাবেই যেন শিরকের চিন্তাধারার উত্থান না ঘটে তাই তাসবির নিষেধ করা হয়েছে ৷ সর্বজন গ্রহণযোগ্য অভিধান লিসানুল আরবসহ অন্যান্য অভিধানে তাসবির বা صورة ‘র সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এভাবে-
ما لها شكل و ابعاد و ثبوت অর্থ্যাৎ ছবি হলো যার আকার, পরিধি ও স্থিতি আছে ৷
মোবাইল, ইন্টারনেট ও টেলিভিশনের ছবি তথা ডিজিটাল ছবির আকার, পরিধি ও স্থিতি নাই ৷ যন্ত্র চালু না করলে ছবির কোন অস্তিত্ব দেখা যায় না ৷ তাই এটি কোন ক্রমেই তাসবির নয় ৷ ডিজিটাল ছবিকে জোর করে তাসবিরের হুকুমে ঢুকাতে চাওয়া এক প্রকার গোঁড়ামি ৷ আরব উলামায়ে কেরামের মতে ডিজিটাল ছবি- যার কোনো আকার, পরিধি ও স্থিতি নাই তা সম্পূর্ণ জায়েজ ৷ সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় শায়খ ড. সালেহ আল-উসাইমিন এর ফতোয়া- الصورة الرقمي جائز অর্থ্যাৎ ডিজিটাল ছবি জায়েজ ৷
তাঁর এই ফতোয়া প্রদানের পর ডিজিটাল ছবি জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে আরবের সকল উলামায়ে কেরাম একমত পোষণ করেছেন ৷ তবে প্রিন্টেড ছবির আকার, পরিধি ও স্থিতি রয়েছে ৷ তাই এটি তাসবিরের অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় নাজায়েজ ৷ তবে প্রিন্টেড ছবি জায়েজ হতে হলে জরুরতে দ্বীনিয়্যা শর্ত ৷
الضررورة تبيح المحظورات أي المحظورات الدينيه আলোচ্য এই মূলনীতির আলোকে দীনী প্রয়োজনেও প্রিন্টেড ছবিও জায়েজ বলে গণ্য হবে ৷
একটি ছবি এক হাজার শব্দের চেয়েও বেশি কার্যকরী ৷ কোনো বক্তব্যের প্রমাণ ও প্রভাব সৃষ্টির জন্য দ্বীনী প্রয়োজনে পত্রিকায় ছবি ছাপতে হয় ৷ এটিও জরুরতের অন্তর্ভুক্ত হবে ৷ এটি হবে الضررورة الاعلاميه বা মিডিয়ার প্রয়োজন ৷ দ্বীন প্রচারে উলামায়ে কেরামের মিডিয়ায় আসা জরুরি ৷ বিশেষত টেলিভিশনে ৷ কারণ এটির মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছা যায় এবং এটিই সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম ৷ এখনও এ নিয়ে ইখতেলাফ করতে থাকা উলামায়ে কেরামের জন্য আত্নঘাতী ছাড়া আর কিছু নয় ৷
মূল- ড. মাওলানা শামসুল হক সিদ্দিক
শ্রুতিলিখন- ইলিয়াস সারোয়ার
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- মাওলানা মিরাজ রহমান